বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি

জাপানি তরুণদের মাঝে ৫০ বছর মেয়াদি গৃহঋণে আগ্রহ বাড়ছে

বাড়ির দাম বাড়তে থাকায় জাপানে তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ বছর মেয়াদি গৃহঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

বাড়ির দাম বাড়তে থাকায় জাপানে তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ বছর মেয়াদি গৃহঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। দেশটিতে সাধারণত গৃহঋণের মেয়াদ ৩৫ বছর হয়ে থাকে। কিন্তু এখন এর চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্যাকেজ চালু হয়েছে, যা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খবর কিয়েদো।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি কমিয়ে পছন্দের বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ জাপানিরা। তবে ঋণের মেয়াদ যত দীর্ঘ হচ্ছে, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ তত বাড়ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের অবসর নেয়ার পরও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

পাশাপাশি জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনায় সুদহারের ওঠানামার ঝুঁকিও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) দেশটিতে সুদহার ৩০ বছরের সর্বোচ্চ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে জাপানের পেপে ব্যাংক ৫০ বছর মেয়াদি গৃহঋণ চালু করে। এতে দেখা গেছে, ২০-এর কোঠার গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ ও ৩০-এর কোঠার প্রায় ৪৯ শতাংশ ৩৫ বছরের বেশি, এমনকি ৫০ বছর পর্যন্ত মেয়াদের গৃহ ঋণ বেছে নিয়েছেন।

জাপানের অনেক ইন্টারনেট ব্যাংক ও আঞ্চলিক ব্যাংক একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিচ্ছে। তাদেরও মূল লক্ষ্য তরুণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা। দেশটির নীতি অনুসারে, গ্রাহককে ৮০ বছর বয়সের মধ্যে ঋণ পরিশোধ শেষ করতে হয়।

গৃহঋণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এমএফএস ইনকের তাকাশি শিওজাওয়ার হিসাব অনুযায়ী, যদি কেউ বার্ষিক দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে ৬ কোটি ইয়েন ঋণ নেয়, তাহলে ৩৫ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়েন এবং মোট সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮২ লাখ ৩০ হাজার ইয়েন।

অন্যদিকে একই শর্তে ৫০ বছর মেয়াদি ঋণ নিলে মাসিক কিস্তি কমে দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়েন, তবে মোট সুদ দিতে হবে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ইয়েন।

এ বিষয়ে লাইফুল রিয়েল এস্টেট গ্রুপের তোশিয়াকি নাকায়ামা বলেন, ‘৫০ বছর মেয়াদি ঋণ নিলে মাসিক কিস্তি কমে যায়, ফলে হাতে কিছু অতিরিক্ত অর্থ থাকে।’

তার মতে, সে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগে ব্যবহার করাও একটি বিকল্প হতে পারে। তবে সতর্ক করে তোশিয়াকি বলেন, ‘ঋণ নেয়ার আগে ভবিষ্যৎ নিয়ে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভালোভাবে বিবেচনা করা জরুরি।’

মূলত অসুস্থতা, চাকরি পরিবর্তনের কারণে আয় কমে যাওয়া বা কিস্তি পরিশোধে সমস্যার মতো ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রাখতে বলেছেন তোশিয়াকি নাকায়ামা।

আরও